বাংলাদেশে ই-কমার্স ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আপাত দৃষ্টিতে যতটা জনপ্রিয় মনে হয় বাস্তবে তার চেয়েও বেশি জনপ্রিয় আমাদের দেশের বর্তমান ই-কমার্স। প্রথম আলোর সূত্রমতে প্রতিবছর দেশে প্রায় ২০০ কোটি টাকার কেনাবেচা [1] হয় অনলাইনে। আর তা এই ২০০ কোটিতেই থেমে নেই। ক্রমেই তা বেড়ে চলেছে বছরে ১৫-২০% হারে। এমন দিনও হয়তো আর খুব বেশি দূরে নেই যেদিন দেশের অন্তত ২০-৩০ ভাগ মানুষ অনলাইনে কেনাকাটা করবে।
তবে অনলাইনে কেনাকাটার যেমন কিছু সুবিধা রয়েছে ঠিক তেমনই রয়েছে বেশ কিছু অসুবিধাও। যা কিনা আপনাকে ফেলতে পারে ভোগান্তিতে, আফসোসে। আপনাকে যেন তেমন কোন ভোগান্তিতে পরে আফসোস করতে না হয় সেইজন্যেই এই সাবধানতামূলক পোস্ট।
চোখের সামনে আমার পছন্দের কোন জিনিস পেলাম আর ধাপ করে সেটা কিনে ফেললাম, বিষয়টা কিন্তু এমন হওয়া উচিৎ হয়। যেহেতু বর্তমানে আমাদের দেশে অনলাইনে কম্পিটিশন তুলনামূলক কম, সেহেতু অনেকেই চাইবে সেটার ফায়দা নিতে। বাজারে আপনি একটা পণ্য যে দামে পাবেন, অনলাইনে হয়তো সেই একই প্রোডাক্ট তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি করছে। সেক্ষেত্রে বাজারের দাম সম্পর্কে জেনে নেয়ার চেষ্টা করবেন। তাহলে দুইটা দাম কম্পেয়ার করে আপনি কিনতে পারবেন।
আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলি, একবার একটা ঘড়ি পছন্দ হয়েছিল অনলাইনে একটা ওয়েবসাইটে। সেখানে ঘড়িটার দাম ছিল সাড়ে আটশো টাকার মতো। কিন্তু কোন এক কারণে আমি সেদিন ঘড়িটা কিনি নি। পরবর্তিতে কয়েকদিন পর অন্য আরেকটা ওয়েবসাইটে দেখি সেই একই ঘড়ি বিক্রি হচ্ছে সাড়ে তিনশো টাকার মতো। ঘড়িটা চাইনিজ ছিল, তো এখানে ব্র্যান্ড বা আসল-নকলের কোন ব্যাপার ছিলনা। একই ঘড়ি, অথচ দুই জায়গায় দামের পার্থক্য অনেক। এক জায়গা থেকে যেখানে আমি একটা কিনতে পারতাম, আরেক জায়গা থেকে সেই একই জিনিস দুইটা কেনার পরেও আমার হাতে দেড়শ টাকা থেকে যেত।
এরপর থেকে অনলাইনে কিছু কেনার আগে আমি সেটার সঠিক বাজার দর জেনে নেয়ার চেষ্টা করি। আর দেশের বাজারে সেটা সহজলভ্য না হলে একই প্রোডাক্ট অন্য কেউ বিক্রি করছে কিনা সেটাও যাচাই করি। তাই আমার সাজেশন থাকবে যে অনলাইনে প্রোডাক্ট কেনার আগে অবশ্যই অবশ্যই সেই প্রোডাক্টের আসল বাজার দর জেনে নিবেন, অথবা আর কোথাও সেই প্রোডাক্ট অনলাইনে পাচ্ছেন কিনা সেটাও খেয়াল রাখবেন।
আপনি নিয়মিত ইন্টারনেট ব্যবহারকারি হয়ে থাকলে ইতোমধ্যেই আপনি বেশ অনেকগুলো ই-কমার্স ওয়েবসাইট সম্পর্কে জানেন। সাধারণত যেগুলো থেকে বেশিরভাগ মানুষ কেনাকাটা করে, চেষ্টা করুন সেগুলো থেকেই কিনতে। নতুন নতুন অনেক ওয়েবসাইট প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে, যার মধ্যে অনেকেই ভুয়া সাইট খুলে টাকা মেরে দেয়ার পায়তারা করে আছে। আজকেরডিল, এখনি, কায়মুসহ বেশ কিছু বিশ্বাসযোগ্য ওয়েবসাইট আছে যাদের কাছ থেকে নির্দ্বিধায় পণ্য কিনতে পারেন।
বিশ্বাসযোগ্য ওয়েবসাইট ছাড়া আর অন্য কারও কাছে পণ্য পাওয়ার আগেই পেমেন্ট করবেন না। বিশেষ করে ফেইসবুক পেইজ আর নতুন ওয়েবসাইটগুলোর ক্ষেত্রে কখনোই আগে পেমেন্ট করা উচিৎ না। তাদেরকে বলুন পে অন ডেলিভারির কথা, অর্থাৎ পণ্য বুঝে পেলেই কেবল আপনি টাকা দিবেন তাদের হাতে।
পে অন ডেলিভারিতে আপনার টাকা হারানোর কোন ভয় থাকবে না। তাই নতুন জায়গা থেকে কেনার আগে পে অন ডেলিভারি সার্ভিস নেয়ার চেষ্টা করুন।
অনেক সময় এমন হতে পারে যে অনলাইনে আপনি যেমন প্রোডাক্টটি দেখলেন বাস্তবে সেটার সাথে বেশ অমিল রয়েছে। তখন তারা রিটার্ন পলিসি কেমন সেটার উপর ভিত্তি করে টাকা ফেরত পাবেন কিনা সেটা ডিপেন্ড করে। ক্ষেত্রবিশেষে ত্রুটিপূর্ণ প্রোডাক্টও পেতে পারেন। তখন তারা রিফান্ড করবে কিনা অথবা রিপ্লেস্মেন্ট করবে কিনা সেটা তাদের রিটার্ন/রিপ্লেসমেন্ট পলিসির উপর নির্ভর করবে। তাই পণ্য কেনার আগে তাদের রিটার্ন/রিপ্লেসমেন্ট পলিসি কেমন সেটা অবশ্যই অবশ্যই কেনার আগে জেনে নিন।
তো অনলাইনে পণ্য কেনার আগে এই বিষয়গুলো একটু মাথায় রেখে কিনবেন, তাহলে সেটা আপনার জন্যে ভালো হবে বলেই মনে করি।
তো এবার আমাদেরকে কমেন্টে জানান যে আপনি কি কখনো অনলাইনে প্রোডাক্ট কিনেছেন কিনা? কিনে থাকলে আপনার অভিজ্ঞতা কেমন?
[1] প্রথম আলোর সূত্র – http://epaper.prothom-alo.com/view/dhaka/2014-12-26/1
বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। টুকটাক লেখালেখির পাশাপাশি বই পড়া, নতুন জিনিস জানার প্রতি ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে তার। ব্যবসার প্রতি মনের টান রয়েছে, ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম একজন ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় নিজেকে। প্রয়োজনে ফেসবুকে পলাশ এর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। :)
নিশ সাইট তৈরির সময় বড় বড় ভুল থেকে যেভাবে বাঁচবেন!
ওয়েবসাইটের লিংক ভেলোসিটিতে গুরুত্ব না দিয়ে যেভাবে আমরা বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি!
একটু ইনবক্সটা চেক করবেন?
স্প্যাম ইমেইল কি এবং কিভাবে চেনা যায়?
কিভাবে একটি ইমেইল আইডি খুলবো?
বাংলাদেশে রক্তের প্রয়োজন পড়লে সবার আগে কোথায় খোঁজ করবেন?