নিশ সাইট স্টার্ট আপ এর দ্বিতীয় পর্বে স্বাগতম। যারা আগের পর্ব মিস করেছেন তারা নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে প্রথম পর্ব আগে পড়ে নিন।
এই পর্বে আলোচনা করবো কিভাবে আমি ডোমেইন সিলেকশন করলাম এবং কোথায় থেকে হোস্টিং নিলাম।
যারা জানেন না যে ডোমেইন কি জিনিস, খায় না মাথায় দেয়; তাদের জন্যে সহজ উত্তর হচ্ছে কোন ওয়েবসাইতের ঠিকানাই হচ্ছে ডোমেইন। যেমন এই ওয়েবসাইটের ঠিকানা হচ্ছে projuktigeek.com এবং এটাই এর ডোমেইন।
এক্সপায়ার্ড ডোমেইন হচ্ছে এমন ওয়েবসাইটের ঠিকানা যেটা পূর্বে অন্য কেউ রেজিস্ট্রেশন করে ব্যবহার করেছিল, এখন কোন কারণে আর করছেনা, তাই এক্সপায়ার্ড হয়ে গিয়েছে।
আর হোস্টিং হচ্ছে আপনার ওয়েবসাইটের ডাটা যেখানে স্টোর করা থাকবে। নিচের ভিডিওটি দেখে নিলে এ সম্পর্কে আর কোন প্রশ্ন থাকার কথা না আশা করি।
ইতোপূর্বে আমি এক্সপায়ার্ড ডোমেইন নিয়ে কখনো কাজ করিনি, সবসময়েই ফ্রেশ ডোমেইনই ছিল আমার পছন্দের শীর্ষে। এক্সপায়ার্ড ডোমেইন নিয়ে কাজ না করার পেছনে কিছু কারণ ছিল।
এর মধ্যে সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে পছন্দসই নাম না পাওয়া। পূর্বে অন্যের নির্ধারিত নামেই আমাকে সাইট তৈরি করতে হচ্ছে। পক্ষান্তরে যদি ফ্রেশ নতুন ডোমেইন নিয়ে কাজ করা হয় সেক্ষেত্রে নিজের পছন্দমতো ডোমেইন নেইম পছন্দ করার একটা সুযোগ থাকে।
তারপরেও এই নিশ সাইট স্টার্ট আপ এ আমি এক্সপায়ার্ড ডোমেইন নিয়েই কাজ করার সিদ্ধান্ত নিলাম। তবুও আমি নতুনদের অবশ্যই অবশ্যই ফ্রেশ ডোমেইন নিয়ে কাজ করার জন্যে উৎসাহিত করবো।
কারণ এক্সাপায়ার্ড ডোমেইন নিয়ে কাজ করা তুলনামূলক রিস্কি। কেনার পূর্বে আপনাকে অনেকগুলো মেট্রিক্স যাচাই বাছাই করে এরপর কিনতে হবে।
কোন কারণে কোন মেট্রিক্স ভুল হয়ে গেলে খেল খতম। পরবর্তীতে সেই ডোমেইনের উপর দাঁড় করানো সাইট পুরোটাই লস যেতে পারে।
আমি যে এক্সপায়ার্ড ডোমেইনটি কিনেছি তার ম্যাট্রিক্স অনেকটা এরকম –
একটা এক্সপায়ার্ড ডোমেইন কেনার আগে অনেকগুলো মেট্রিক্স দেখে এরপর কিনতে হয়। এই লেখায় আর সেগুলো দিচ্ছিনা, পরবর্তীতে কোন আর্টিকেলে সেগুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করবো যদি সুযোগ হয় ঈনশাআল্লাহ।
আর ডোমেইন সিলেকশনের সময় অবশ্যই ব্র্যান্ডেবল ডোমেইন নেয়ার বিষয়টা মাথায় রাখবেন। ডোমেইনের মধ্যে বেস্ট, রিভিউ ইত্যাদি থাকাটা কেমন যেন স্প্যামি স্প্যামি মনে হয়।
তাছাড়া ডোমেইনের মধ্যে কিওয়ার্ড সরাসরি থাকলে পরবর্তীতে সেই ডোমেইনে শোল্ডার নিশ/ কাছাকাছি অন্য নিশ নিয়ে কাজ করার সুযোগটা আর থাকেনা।
যেটা কিনা একটা সফল সাইটকে আরও সফল করার ক্ষেত্রে দরকার।
ব্র্যান্ডেবল ডোমেইন সিলেকশন নিয়ে আরও জানতে নিচের আর্টিকেলগুলো দেখতে পারেন –
নিশ সাইটের জন্যে হোস্টিং সিলেকশন করা অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভুল জায়গায় হোস্ট করলে সবসময়েই পস্তাতে হবে। টাকা তো জলে যাবেই সাইটও হবে স্লো, তার উপর যদি কাস্টমার সাপোর্ট খারাপ হয় তাহলে তো মরার উপর খাড়ার ঘা।
আমি দেশি হোস্টিং প্রোভাইডার, বিদেশি হোস্টিং প্রোভাইডার সবই কম বেশি ইউজ করেছি।
প্রযুক্টিগিক হোস্ট করা আরভিক্স এ। আমার আগের নিশ সাইটও এখানে হোস্ট করতাম। আমি বাংলাদেশ থেকে লোডিং স্পিড ঠিকঠাক পেলেও, জিটিমেট্রিক্স বা পিংডম থেকে অনেক লোডিং স্পেড দেখাতো।
যা যথেষ্টই বিরক্তিকর।
প্রতিবারই ৩ সেকেন্ডের বেশি সময় লাগতো আর কখনো কখনো ২০ সেকেন্ডও দেখিয়েছে। এ ব্যাপারে আরভিক্সের সাপোর্টেও কথা বলেছিলাম। তারা বলেছে তারা কোন সমস্যা দেখছেনা।
আমি তাদেরকে জিটিমেট্রিক্স, পিংডম এর স্ক্রিনশট দেখালাম।
আর তারা বলে আমার নেট কানেকশন স্লো, আইএসপিতে সমস্যা।
কিন্তু ওই মূর্খদের কে বোঝাবে যে জিটিমেট্রিক্স, পিংডম আমার পিসি দিয়ে না, ওদের রিমোট পিসি দিয়ে স্পিড টেস্ট করছে।
ওদের এমন কথার পর আমি বুঝে গিয়েছিলাম যে এদের সাথে আর না। তখনই বেশ ঘাটাঘাটি শুরু করলাম কোন হোস্টিং নেয়া যায় তা নিয়ে।
বেশ কয়েকদিন ঘেটে ড্রিমহোস্ট আমার সবচেয়ে পছন্দ হলো। তাদের হোস্টিং এ পয়সা বেশি নিলেও তাদের সাইটে লোডিং স্পিড সুপার ফাস্ট হবে। এই আশাতেই কিনে নিলাম ওদের শেয়ার্ড প্যাকেজ।
আর রেজাল্ট?
এই যে আপনার চোখের সামনে…
অবিশ্বাস্যভাবে এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে লোড হচ্ছে।
একই শেয়ার্ড প্যাকেজে হোস্ট করা আরেকটি নিশ সাইটের রেজাল্ট।
ওরা যে এস এস ডি হোস্টিং এর কথা বলেছে সেটা ওদের কথামতোই সুপার ডুপার ফাস্ট। তাছাড়া আপনি আনলিমিটেড ডোমেইন হোস্ট করতে পারছেন।
স্টোরেজ এবং ব্যান্ডউইথও আনলিমিটেড (যদিও এই আনলিমিটেড এর কিছু পলিসি আছে, সব হোস্টের ক্ষেত্রেই)
ওদের কাস্টমার সাপোর্টও অসাধারণ, আমি আরভিক্স থেকে আমার একটা সাইট এখানে ট্রান্সফার করার পর কিছু সমস্যা ফেইস করছিলাম। ওরা এক ঘন্টারও বেশি সময় টানা কথা বলে আমাকে সেটার সলিউশন করতে সাহায্য করেছি।
যা কিনা খুব দারুণ এক্সপেরিয়েন্স ছিল।
আর সবচেয়ে বড় কথা, ব্যবহার করার পর যদি আপনার পছন্দ না হয় তাদের সার্ভিস তাহলে ৯৭ দিনের মানি ব্যাক গ্যারান্টি রয়েছে। যার মাধ্যমে আপনি আপনার টাকা ফেরত পাবেন।
তাই ওদের এখানে পয়সা বেশি লাগলেও আমি ওদেরকেই রেকমেন্ড করবো।
সাধারণত ওদের শেয়ার্ড হোস্টিং প্যাকেজ ৯৭ ডলার। আর এই লিংক থেকে নিলে আপনি ৫০ ডলার ছাড়ে কিনতে পারবেন। কেউ আমার অ্যাফিলিয়েট লিংক থেকে কিনলে অবশ্যই আমাকে জানাবেন। 🙂
ড্রিমহোস্ট থেকে হোস্টিং নিতে এখানে ক্লিক করুন (অ্যাফিলিয়েট লিংক )
আগামী পর্বে আমি কোন থিম ব্যবহার করছি, কি কি প্লাগইন ইউজ করছি সেগুলো তুলে ধরবো। আর আশা করছি এবার আপনাদের দীর্ঘ সময়ে অপেক্ষায় রাখবোনা।
নিশ সাইট সম্পর্কিত আপনার যেকোনো জিজ্ঞাসা আমাকে কমেন্ট সেকশনে জানান। আমি উত্তর দিবো।
বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। টুকটাক লেখালেখির পাশাপাশি বই পড়া, নতুন জিনিস জানার প্রতি ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে তার। ব্যবসার প্রতি মনের টান রয়েছে, ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম একজন ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় নিজেকে। প্রয়োজনে ফেসবুকে পলাশ এর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। :)
নিশ সাইট তৈরির সময় বড় বড় ভুল থেকে যেভাবে বাঁচবেন!
নিশ সাইট শুরুর পর কি ধরণের ব্যাকলিংক করবো?
কিভাবে আপনার ওয়েব সাইট থেকে ইবুক বিক্রি করতে পারেন?
ওয়েবসাইটের লিংক ভেলোসিটিতে গুরুত্ব না দিয়ে যেভাবে আমরা বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি!
“Content is King” – A Myth (প্রচলিত ভুল ধারণা?)
কিওয়ার্ডের সিজনালিটি কিভাবে চেক করবো?
ডোমেইন এর বয়স – কোন ক্ষেত্রে গুরুত্ব বহন করে এবং কোন ক্ষেত্রে করে না?
নিশ সাইটের জন্যে কতো শব্দের আর্টিকেল দিতে হবে?