গুগলের দ্বিতীয় পেইজে আটকে আছেন? র‍্যাংক আগাচ্ছেনা? সম্ভাব্য সমাধান ও এক্সপার্টদের মতামত

দীর্ঘদিন যাবৎ দ্বিতীয় পেইজে কিওয়ার্ড স্টাক হয়ে আছে? কি করা উচিত এমন সময়ে? ঠিক কি কাজগুলো করলে দ্বিতীয় পেইজ থেকে প্রথম পেইজে আসা যাবে?

এসইও নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের এরকম প্রশ্ন প্রায়ই মাথায় আসে। কারণ এরকম পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক এবং কম-বেশি সবাই এর মুখোমুখি হয়েছে। অনেক সময় এমনও হয় সেকেন্ড পেইজ থেকে প্রথম পেইজে আনার জন্যে অনেক লিংক বিল্ডিং করেও সেটার তেমন কোন সুফল পাওয়া যাচ্ছেনা। দীর্ঘদিন এসইও নিয়ে কাজ করার ফলে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে এবং যে হাইপোথিসিস গুলো মাথায় আছে সেগুলোই এই আর্টিকেলে তুলে ধরবো।

সবগুলো বিষয় শতভাগ প্রমাণ নির্ভর এমন না, আমি আমার পার্সোনাল কাজে যা করে, যেভাবে করে সুবিধা পেয়েছি, সফলতা দেখেছি সেগুলোই তুলে ধরবো। তবে তার আগে, বেশ কিছু এসইও এক্সপার্ট দের মতামত আমি জানতে চেয়েছিলাম। তারা তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে সুচিন্তিত মতামত দিয়েছেন। 

দ্বিতীয় পেইজে স্টাক অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে টপ এসইও এক্সপার্টদের মতামত - 

রোহিত পালিত

রোহিত পালিত

এসইও গিক, ফাউন্ডার - টেকটেইজ

  • কন্টেন্ট ইস্যু চেক করা
  • অন পেইজ এসইও চেক করা (বিশেষ করে অভার অপ্টিমাইজেশন)
  • UX ঠিক আছে কিনা চেক করা
  • আরও লিংক তৈরি করা
  • কন্টেন্ট এর লেংথ প্রথম পেইজের কম্পিটিটর দের থেকে কম আছে কিনা চেক করা

নাসির উদ্দিন শামীম

নাসির উদ্দিন শামীম 

কো ফাউন্ডার, সিওও - ডেভসটিম লিমিটেড

সেকেন্ড পেইজে অনেক কারনেই স্টাক থাকতে পারে। সেগুলো নিয়ে কথা বললে বেশ লম্বা একটা আর্টিকেল হয়ে যাবে। 


সুতরাং এর সমাধান নিয়েই আজকে আলোচনা করা যাক।


আমি বিভিন্ন সময় এক্সপেরিমেন্ট করে নিচের এই তিনটা স্ট্র্যাটেজি বের করেছি যেগুলো আমি ব্যবহার করে থাকি এবং ৯০% সময় কাজ করে।


) এক্সিস্টিং কন্টেন্ট আপডেট করা


ধরেন আপনার কন্টেন্ট হচ্ছে “Caterers in London” নিয়ে। আপনি এখন আপনার এক্সিস্টিং আর্টিকেলের প্রত্যেকটা প্যারাগ্রাফে এক লাইন নতুন করে এড করে দিলেন। ৩০০-৫০০ ওয়ার্ড এর কন্টেন্ট এড করতে পারলেই ভালো একটা র‍্যাংক বুস্ট পাবেন।


এটার পেছনের যুক্তি হচ্ছে “Google Freshness Algorithm” – একটু গুগল করলেই বিস্তারিত পেয়ে যাবেন।


) -৩টা সাপোর্টিভ পেজ বানানো


আপনার মানি আর্টিকেলে যদি “Caterers in London” নিয়ে হয়; তবে আপনি আপনার সাইটে “Top 10 caterers in London”, “ Best Canopies That You Must Check in London”, “Best Restaurents in London for Tourists” এই ধরণের কিছু রিলেটেড পেজ ক্রিয়েট করবেন এবং সেগুলো থেকে ইন্টারনাল লিঙ্ক দিবেন আপনার মেইন মানি পেইজে।


এতে করে গুগল ওই পার্টিকুলার কীওয়ার্ড এর জন্য স্ট্রং একটা রিলিভেন্সি খুঁজে পাবে

আপনার সাইটের মধ্যে এবং ইন্টারনাল লিঙ্কের কারণে র‍্যাংক বুস্ট পাবে।


) -২০ টা কনটেক্সচুয়াল ব্যাকলিংক দেয়া (পিবিএন, গেস্টপোস্টিং)


সেমি এক্স্যাক্ট ম্যাচ এঙ্কর ভাল কাজ করে। কিছু পিবিএন লিঙ্ক অথবা গেস্ট পোস্ট কিনতে পারেন আপনার মানি পেইজের সাথে রিলিভেন্ট করে।


জাকির হোসেন রনি

জাকির হোসেন রনি

মডারেটর, অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট বাংলাদেশ গ্রুপ

প্রথমেই নিশ্চিত হয়ে নেয়া উচিত সাইটে, পেইজে কোন ব্ল্যাক হ্যাট মেথড ব্যবহার করা হয়েছে কিনা র‍্যাঙ্ক করার জন্য। করা হয়ে থাকলে ব্ল্যাঙ্ক হ্যাটের মেথডগুলো যেসব ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে সেগুলো আবার ডাবল চেক করে প্রয়োজনীয় জায়গাগুলোতে নতুনভাবে করতে হবে সব।

কোন কীওয়ার্ডের জন্য কোন পেইজ র‍্যাঙ্ক করবে (টার্গেট করা হচ্ছে) আর সেই র‍্যাঙ্কিং নিশ্চিত করার জন্য কিভাবে প্ল্যান করা হচ্ছে সেটি খতিয়ে দেখা উচিত আরেকবার। একই বা খুবই কাছাকাছি কীওয়ার্ডের জন্য একাধিক পেইজ র‍্যাঙ্ক করাতে চাইলে সেটি খুবই দক্ষতা আর সতর্কতার সাথে পরিকল্পনা আর অপ্টিমাইজেশন করে করা উচিত। এই ধরনের কিছু হচ্ছে কিনা আর তা ভুলভাবে হচ্ছে কিনা তা আবার নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। ভুল হলে সেটি শুদ্ধভাবে করা উচিত।

যে পেইজটির র‍্যাঙ্ক ইমপ্রুভ করছে না সেটির অনসাইট এসইও অপ্টিমাইজেশন আবার দেখে নেয়া উচিত। যেসব জায়গায় কীওয়ার্ড দিয়ে অনসাইট অপ্টিমাইজেশন সম্ভব সেগুলো সবগুলোই আবার পরীক্ষা করে দেখা উচিত সঠিকভাবে করা আছে কিনা বা আরো উন্যতি করার সুযোগ আছে কিনা। সুযোগ থাকলে সেটি করা উচিত।

পেইজটির টার্গেটেড কীওয়ার্ডের জন্য কম্পিটিটরদের অবস্থান, তাদের অনসাইট অপ্টিমাইজেশ, কন্টেন্ট এর দৈর্ঘ্যে, কন্টেন্ট এর দৈর্ঘ্য অনুযায়ী কীওয়ার্ড ডেনসিটি ঠিক আছে কিনা, কন্টেন্ট ফরমেট, কন্টেন্ট স্টাইল দেখে নিয়ে কোথায় র‍্যাঙ্ক ইমপ্রুভ না করা পেইজটি পিছিয়ে আছে তা বের করে নিয়ে সমাধান করে নিতে হবে। আরো ভাল কিছু করার, দেয়ার চেষ্টা করতে হবে কম্পিটিটর থেকে।

পেইজটির টার্গেটেড কীওয়ার্ডের জন্য কম্পিটিটরদের লিঙ্ক প্রোফাইল আর লিঙ্ক অথরিটি দেখে নিয়ে পেইজটির জন্য লিঙ্কিং স্ট্র্যাটেজী তৈরি করে নিয়ে প্রয়োজনীয় লিঙ্ক সংগ্রহ করতে হবে।

পেইজটি থেকে আউটবাউন্ড লিঙ্কগুলোর রেলেভেন্সী আর অথরিটি আছে কিনা সেটি দেখতে হবে। ইন্টারনাল লিঙ্কিং রেলেভেন্সী দিচ্ছে কিনা তা পরীক্ষা করে সঠিকভাবে করতে হবে। ইনবাউন্ড লিঙ্কগুলোর এঙ্কর প্রোফাইল ক্লীন কিনা, এক্সাক্ট কীওয়ার্ড ফ্রেইজ এঙ্করগুলোতে বহুল ব্যবহৃত হয়েছে কিনা সেটি দেখতে হবে। ইনবাউন্ড লিঙ্কগুলোর অথরিটি আর ভ্যালু দেখে নিয়ে স্প্যামী লিঙ্কগুলো সরিয়ে নিতে হবে। ভাল মানের লিঙ্ক করতে হবে প্রয়োজন অনুযায়ী।


উপরে এসইও এক্সপার্ট দের মতামত থেকে নিশ্চ্যই দারুণ কিছু সাজেশন পেয়েছেন যা অ্যাপ্লাই করলে সাইটের র‍্যাংকিং অবশ্যই এগিয়ে আসবে।

এবার একে একে আমি আমার মতামতগুলো তুলে ধরছি, অ্যাপ্লাই করার সময় সবগুলো বিষয়ের দিকে একই সাথে খেয়াল রাখলে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে বলে মনে করি, ইনশাআল্লাহ্‌।

অন পেইজ এসইও

কেউ কখনো যদি জিজ্ঞেস করে যে, দ্বিতীয় পেইজে স্টাক অবস্থায় সবার আগে কোন কাজ করবো, তাহলে আমার প্রথম উত্তর থাকে অন পেইজ এসইও ডাবল চেক করার কথা। ভালো কাজ করেও দ্বিতীয় পেইজে স্টাক থাকার দুইটা বড় কারণের মধ্যে এটা একটা।

কিছুটা দূর্বল অন পেইজ এসইওর জন্যেও অনেক সময়েই ভালো মানের লিংক তৈরি করেও প্রথম দিকে আসা যায়না। তাই এই জায়গাটায় ভালোভাবে কাজ করলে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব। পুরো আর্টিকেল জুড়ে একাধিকবার অন পেইজ এসইওর বিষয়গুলো চেক করতে হবে। যারা অন পেইজ এসইও সম্পর্কে তেমন জানেন না, বা ভাসা ভাসা জ্ঞান আছে, তারা ব্রায়ান ডিনের এই আর্টিকেলটি পড়ে নিতে পারেন।

আর্টিকেলে

প্রায়ই বলে থাকি আমরা বাঙ্গালিরা আবেগে পড়ে অভার-অপ্টিমাইজ করে ফেলি, তাই প্রথম চেক করতে হবে আর্টিকেলটি ওভার অপ্টিমাইজড কিনা। আর্টিকেল আন্ডার অপ্টিমাইজড থাকলেও র‍্যাংক করা সম্ভব কিন্তু স্প্যামি নিশ ছাড়া গতানুগতিক অ্যামাজন নিশে অভার অপ্টিমাইজড অন পেইজ এসইও নিয়ে প্রথম দিকে র‍্যাংক করা সম্ভব না।

আর্টিকেলে যেখানে স্বাভাবিকভাবে কিওয়ার্ড এড করা যায় সেখানেই এড করা ভালো। যেখানে যেখানে জোড়পূর্বক কিওয়ার্ড দেয়া হচ্ছে ধরে নিবেন সেখানেই সমস্যা। আপনার আর্টিকেলে এমন কিছু থেকে থাকলে সেটাকে কমিয়ে স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসা অতীব গুরুত্বপূর্ণ। 

ইমেইজে

আর্টিকেলে অভার অপ্টিমাইজেশন সহজে চোখে পরে এবং সেটাকে ঠিক করে ফেলাও সহজ। কিন্তু আরেক জায়গায় অভার-অপ্টিমাইজ করার সুযোগ আছে এবং সেটা চেক করার সময় ধরাও পরে না। সেটা হলো ইমেইজ অল্ট টেক্সট। 

একটা পেইজে যদি ১৫টা ছবি আপলোড করা হয়, দেখা যায় অনেকে ১৫টার মধ্যেই মূল কিওয়ার্ড দিয়ে দেয়া হয়েছে। এরকম করাটা অযৌক্তিক এবং খুবই এগ্রেসিভ। এমনটা করা যাবেনা।

ফিচার্ড ইমেইজে মূল কিওয়ার্ড দিন, বাকি কয়েকটায় এল এস আই ভেরিয়েশন দিতে পারেন, বাকিগুলো যে প্রডাক্টের ইমেইজ সেই কোম্পানির নাম সহ প্রডক্টের মডেল দিন। কারণ, এটাই স্বাভাবিক।

হেডিং-এ

হেডিং ট্যাগ ব্যবহার করার সময় রঙ তুলির মতো নিজের মনের মাধুরী মিশিয়ে করা যাবেনা। হেডিং ট্যাগ এর ক্ষেত্রে একটা নির্দিষ্ট হায়ারকি বা ক্রমোচ্চ শ্রেণি (দাঁত ভাংলে জাতি দায়ী না) মেনে এরপর করতে হবে।

যেমন টাইটেল থাকবে এইচ ওয়ান, দ্বিতীয়বার এইচওয়ান ব্যবহার এর দরকার নেই। আপনার সাইটে থেকে থাকলে সেটাকে কারেকশন করুন। এরপর গুরুত্বপূর্ণ হেডিং গুলো থাকবে এইচ টু তে, তার আন্ডারে থাকবে এইচ৩, তার আন্ডারে এইচ ৪ এরকম করে। একটা আর্টিকেলে অনেকগুলো এইচ২, এইচ৩, এইচ৪ থাকতে পারে।

হেডিং ট্যাগ এর ক্রমোচ্চ শ্রেণি বজায় না রাখা একটা ভুল, আরেকটা ভুল হচ্ছে প্রতিটা হেডিং ট্যাগ এই কিওয়ার্ড ইমপ্লিমেন্ট করে দেয়া। এটাও অনুচিত। প্রতিটায় করবেন না।

এই আর্টিকেলে অন পেইজ এসইও কথাটা এইচ ২ তে আছে, এর আন্ডারে আছে এই সেকশনের বাকি বিষয়গুলো।

ইন্টারনাল লিংকিং এ

ইন্টারনাল লিংক - স্পাইডার ক্রলিং

স্বাভাবিকভাবে আমরা যখন ব্যাকলিংক করি তখন নিশ ভেদে একটা রেশিও বজায় রাখতে হয়, যাতে করে অভার-অপ্টিমাইজড না হয়ে যায়। ইন্টারনাল লিংকিং এর ক্ষেত্রে বিষয়টা অতোটা গুরুত্বপূর্ণ না হলেও গুরুত্বপূর্ণ বটে। আবেগের বসে প্রতিবার মূল কিওয়ার্ড টার্গেটেড আর্টিকেল কে লিংক করার সময় মেইন কিওয়ার্ড কেই বার বার অ্যাঙ্কর হিসেবে ব্যবহার করে ফেলে অনেকে।

যদি ধরি ২০ বার বিভিন্ন আর্টিকেল থেকে আপনি মূল কন্টেন্টে ইন্টারনালি লিংক করবেন, সেক্ষেত্রে ৫-৭ বার মূল কিওয়ার্ড এবং এর ক্লোজ ভেরিয়েশন দিতে পারেন। ধরা যাক ৩-৪টা লং টেইল কিওয়ার্ড আছে, সেগুলো প্রতিটাকে একবার করে ব্যবহার করে ইন্টারনালি লিংক করতে পারেন। বাকিগুলো জেনেরিক, র‍্যান্ডম, দিয়ে দিন। এতে আপনার ক্ষতি হচ্ছেনা, বরং লাভই হচ্ছে।

ইন্টারনাল লিংক করার ক্ষেত্রেও এরকম সাবধানতা অবলম্বন করা ভালো।

আর অবশ্যই আপনার সাইটের অভার অল ইন্টারনাল লিংকিং স্ট্রাকচার ভালো রাখতে হবে। সব আর্টিকেলই যেন কোন না কোন পেইজ থেকে একাধিকবার ইন্টারনালি লিংক পায় সেটাও খেয়াল রাখবেন। তবে তাই বলে অযৌক্তিক ইন্টারনাল লিংকিং করবেন না। যেখানে প্রয়োজন বা করার সুযোগ আছে, কেবল সেখানেই করবেন।

একবার আমার একটা কিওয়ার্ড ১ থেকে ড্রপ করে ৩ এ নেমেছিল। বেশ কয়েকদিন ২-৩ ওঠানামা করছিল। তখন ভাবলাম নতুন করে লিংক না করে আপাতত কি করা যায়। মাথায় আসলো অন্যান্য আর্টিকেল যেগুলো থেকে ইন্টারনাল লিংক করার সুযোগ আছে, কিন্তু করিনি এমন থেকে থাকলে সেখান থেকে করে দেই। এরপর প্রয়োজনে আলাদা লিংক বিল্ডিং করবো। যেদিন ইন্টারনালি লিংক করলাম, ঠিক তার পরের দিন আবার আর্টিকেল ১ এ ফিরে এলো। নতুন কোন ব্যাকলিংক তৈরী করতে হয়নি।

কিওয়ার্ড স্টাক থাকলে এভাবে ইন্টারনালি লিংক এর সংখ্যা বৃদ্ধি করেও দেখতে পারেন।

কন্টেন্ট এ উন্নতি

কিওয়ার্ড দীর্ঘদিন যাবত স্টাক থাকলে এটা অবশ্য করণীয় বিষয়। পুরো কন্টেন্ট চেক করে যেখানে যেখানে উন্নতি করার সুযোগ আছে সেখানে সেখানে নতুন কন্টেন্ট এর অংশ যোগ করে দেয়া।

এতে প্রায় সময়েই রাতারাতি র‍্যাংকিং এ ইম্প্রুভমেন্ট দেখতে পারা যায়। তবে কন্টেন্ট ইম্প্রুভমেন্ট এর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট একটা সেকশনে ৫০০ ওয়ার্ড বা ১০০০ ওয়ার্ড এড না করে পুরো আর্টিকেল জুড়েই বিভিন্ন সেকশনে কিছু কিছু করে যোগ করলে সেটা বেশি যৌক্তিক মনে হয়।

এছাড়া স্টাক পেইজের যে কন্টেন্ট সেটার সাথে যায় এমন রিলেভেন্ট কন্টেন্ট ও এড করা যায়, এটাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটা উদাহরণ দেই - আপনি প্যারাডক্সিকাল সাজিদ বইটি নিয়ে একটি আর্টিকেল লিখলেন এবং চাচ্ছেন আর্টিকেল টাকে গুগলে ভালো র‍্যাংক করাতে। এখন আপনি এর সাথে বিশ্বাসের যৌক্তিকতা, নাস্তিকতার স্বরূপ সন্ধান, ডাবল স্ট্যান্ডার্ড ইত্যাদি বইগুলোকেও আপনার সাইটে রিভিউ করে আর্টিকেল লিখতে পারেন এবং আর্টিকেল থেকে উক্ত পেইজে ইন্টারনালি লিংক করে দিতে পারেন। যেহেতু বিষয়গুলোর ভাষ্য কাছাকাছি এবং এদের মধ্যে সামঞ্জস্যতা আছে, সেহেতু এমন কিছু আপনার সাইটের ওভার অল র‍্যাংকিং এ গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে। 

কিওয়ার্ড ইমপ্লিমেন্ট

এটা একটু ট্রিকি বিষয়। তবে খুব সুন্দরভাবেই এটা কাজ করে। এসইএমরাশ বা আহ্রেফস টুলে আপনার স্টাক হওয়া কন্টেন্টের লিংক দিয়ে দিন, এবার দেখুন কন্টেন্টে ইচ্ছাকৃত ভাবে উল্লেখ করা হয়নি কিন্তু কোন কিওয়ার্ড ভ্যারিয়েশন বা লং টেইল এর জন্যে র‍্যাংক করছে এরকম পাওয়া যায় কিনা। গেলে সেই কিওয়ার্ড ভ্যারিয়েশন বা লং টেইল আপনার আর্টিকেলে কন্টেন্ট ইম্প্রুভমেন্টের সময় দিয়ে দিন।

যদি ব্যবহার না করা কিওয়ার্ডের সার্চ ভলিউম ভালো হয় তাহলে একটা ডেডেকেটেড সাবহেডিং এর আন্ডারেই দিয়ে দেয়া যায় সেটা। এতে সেই কিওয়ার্ডের জন্যে র‍্যাংক যেমন বাড়বে, মূল কিওয়ার্ডেও সেটার ইম্প্যাক্ট পরবে।

অফ পেইজ এসইও

সাইটের বাহিরে লিংক বিল্ডিং নিয়েও কিছু কাজ করা উচিত। ধরে নিন ৪ রান হলে আপনি ম্যাচ জিতবেন, অন পেইজ ২, অফ পেইজ ২। ২এ ২এ ৪ করতে পারলেই আপনি সফলতা পাবেন।

লিংক দাও তারে লিংক দাও

র‍্যাংকিং স্টাক হয়ে থাকলে অন পেইজ এসইওর কাজের পাশাপাশি লিংক বিল্ডিং নিয়েও কাজ করতে হবে। নতুন নতুন লিংক বিল্ড করা অবশ্য কর্তব্য।

এক্ষেত্রে যেন তেন লো কোয়ালিটি লিংক না, ভালো মানের লিংক। হতে পারে গেস্ট পোস্ট, হতে পারে নিজের বানানো পিবিএন। এগেইন, “পিবিএন একটা আর্ট, সবাই পারেনা”। নিজের প্রথম দিককার ইনভেস্টমেন্ট অন্তত এই কাজে গিয়ে নষ্ট করবেন না। আর যে কারও থেকে কিনতে গেলেও সমস্যা। ভুগিজুগি নানা কিছু বুঝাবে। কলা দেখিয়ে মূলা ধরিয়ে দিবে। সাবধানতা অবলম্বন করুন।

অ্যাঙ্কর টেক্সট

আমি এটাকে অন্যতম ডিসাইডিং ফ্যাক্টর বলে মনে করি। আমার এ মতের সাথে অনেকের দ্বিমত থাকা স্বাভাবিক। তবে আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি এখানে ভুল সারা জীবনের কান্নার মতোই হতে পারে, যদি ভুলটা অনেকগুলো লিংকের জন্যে হয় এবং বড় হয়।

অ্যাঙ্কর টেক্সট এ মানুষ, বিশেষত নতুনরা খুবই অ্যাগ্রেসিভ ভাবে আগায়। অ্যাঙ্কর টেক্সট যতোটা স্বাভাবিক রাখা যায় ততো ভালো। আমি একাধিক সাইটে এক্সপেরিমেন্ট করেছি, যেখানে একবারও মূল কিওয়ার্ড কে অ্যাঙ্কর হিসেবে ব্যবহার করিনি, ব্র্যান্ডেবল এবং জেনেরিক অ্যাঙ্কর ছিল সব, আর তাতেও সাইট র‍্যাংক করেছে।

তাই র‍্যাংক করার জন্যে মূল কিওয়ার্ডকেই বার বার অ্যাংকর হিসেবে ব্যবহার করতে হবে এমন না। ব্র্যান্ডেবল অ্যাঙ্করকে প্রাধাণ্য দিন, সেই সাথে জেনেরিককেও।

আর্টিকেলে যে বিষয়গুলো সম্পর্কে আমি ও অন্যান্য এসইও এক্সপার্টগণ বললো এই বিষয়গুলো ঠিকঠাক মতো মেনে চলুন, আপনার র‍্যাংকিং এ উন্নতি পাবেন ইনশাআল্লাহ্‌।

#কুইট্টালান..

Ariful Islam Palash
 

বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। টুকটাক লেখালেখির পাশাপাশি বই পড়া, নতুন জিনিস জানার প্রতি ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে তার। ব্যবসার প্রতি মনের টান রয়েছে, ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম একজন ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় নিজেকে। প্রয়োজনে ফেসবুকে পলাশ এর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। :)