কিওয়ার্ড ডেনসিটি – মারাত্মক যে ভুলের জন্যে সাইট র‍্যাংক করবেনা!

একটা সময় ছিল, যখন অন পেইজে কিওয়ার্ড ৫% বা তার বেশি দিয়ে এবং অ্যাংকর এ প্রতিবারই কিওয়ার্ডের উল্লেখ করে র‍্যাংক করা যেতো। গাদা গাদা ভুল করে পার পাওয়া যেত। সে সময়টা আর নেই। সময় পাল্টেছে। সময়ের সাথে পাল্টেছে কাজ করার ধরণ। 

বর্তমানে কিওয়ার্ড ডেনসিটি খুবই সেনসিটিভ বিষয়।  এখানে ভুল হলে লংকাকাণ্ড করেও সাইট র‍্যাংক করানো যাবে তার নিশ্চয়তা নেই। আমাদের দেশের অনেকের সাইটই আমি দেখেছি। তারা বলেন - সাইটে অনেক কিছু করেছেন, কিন্তু সাইট র‍্যাংক করছেনা। এরকম ইস্যু পেলেই সবার আগে আমি কিওয়ার্ড ডেনসিটি চেক করি। 

খুব কম ক্ষেত্রেই আমি সঠিক কিওয়ার্ড ডেনসিটি পেয়েছি। প্রায় ৯৯% লোক মাত্রাতিরিক্তভাবে কিওয়ার্ড ব্যবহার করে ওভারঅপ্টিমাইজড করে ফেলছেন। যার ফলে তার সাইট ভালো করছেনা, ক্ষেত্রবিশেষে অনেক ভালো ভালো লিংক করেও গুগলের দ্বিতীয় পেইজে আটকে আছে। 

কেন আমাদের ভুল হচ্ছে? 

কিওয়ার্ড ডেনসিটিতে ভুল

কিওয়ার্ড ডেনসিটি নিয়ে অনলাইনে যে রিসোর্স গুলো আছে সেগুলো সঠিক ভাবে বুঝতে না পারা কিংবা মান্ধাতার আমলের অন্য পেইজ স্ট্র্যাটেজি মেইনটেইন করে সাইট তৈরি করা - মূলত এসব কারণেই আমাদের ভুল হচ্ছে। 

কিছু ক্ষেত্রে আমাদের কমন সেন্স ব্যবহার করলে আমরা সঠিক বিষয়টা করতে পারতাম। কিন্তু অনেকে বিষয়টা নিয়ে চিন্তাই করে দেখেনি কখনো। 

এছাড়া ইয়োস্টের মতো বিভিন্ন প্লাগইন এর আউটডেটেড ডেনসিটি মেইনটেইন করার সবুজ বাতি অনেকেকে ভুল পথে নিয়ে যাচ্ছে। 

আবার অনেক সময় দেখা যায় রাইটারকে সঠিক ইন্সট্রাকশন না দেয়ার কারণে, পুর্ব অভিজ্ঞতা অনুযায়ী রাইটার ওভার অপ্টিমাইজড আর্টিকেল দিয়ে দিয়েছে। এক্ষেত্রে কেউ রাইটারকে দোষারোপ করতে চাইলে আমি বিরোধিতা করবো। রাইটারের কাজ লেখা। আপনি যদি নির্দিষ্ট করে না দেন কি লিখবে কিভাবে লিখবে, ডেনসিটি কেমন রাখবে, কোথায় এল এস আই ব্যবহার করবে, তাহলে ভুল আপনার। 

উপরের ৪ টি কারণের যে কারণেই হোক, আমাদের ভুল হচ্ছে এবং এর জন্যে আমাদের মাসুলও দিতে হচ্ছে।  

বিভিন্ন এসইও এক্সপার্ট বিভিন্ন সময়েই ০.৫% কিওয়ার্ড ডেনসিটির কথা বলছেন। আর সেটাই অনেকে মেইনটেইন করে যাচ্ছেন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে যারা ০.৫% এর কথা বলছেন, তারা বেশিরভাগই ওভার অপটিমাইজেশন যে হতে পারে সেটা ভাবছেন না কিংবা গুরু না হয়ে গরু হওয়ার কারণে সেটা বুঝছেন না। 

আমরা ভালোটাই ভাবি, ধরে নিলাম তিনি জানেন, কিন্তু অন্যে ভুল করতে পারে সেটা ভাবতে পারেন নি। 

ভুলটা কোথায়? 

যদি আপনি আইফোন এইট প্লাস নিয়ে একটা রিভিউ লিখেন, সেখানে ০.৫% কিওয়ার্ড ডেনসিটি মেইনটেইন করে ১০০০/২০০০ শব্দের আর্টিকেল লিখেন, সেখানে "আইফোন এইট প্লাস" এই কথাটা অনেক বার আসতে পারে এবং আসবেই এটা স্বাভাবিক। 

যেমন - টেক রাডার এর আর্টিকেলটি

কিন্তু বার বার আইফোন এইট প্লাস রিভিউস বা একইরকম কিছু জিনিস বার বার আসা কি স্বাভাবিক? মোটেও না। উইয়ার্ড হবে বিষয়টা। 

"চলেন ভাত খাই" যদি কিওয়ার্ড হয়, আর ১০০০ শব্দের আর্টিকেলে আপনি ৫ বার চলেন ভাত খাই, বলেন, কেমন দেখা যায়? :p 

আপনি দেখবেন আইফোন এইট প্লাস নিয়ে যারা যারা রিভিউ লিখছে, সবার আর্টিকেলেই "আইফোন এইট প্লাস" কথাটা বার বার এসেছে। কারণ এই ধরণের বিষয়ের জন্যে এটাই নরমাল। এই নিশে এটাই স্বাভাবিক ডেনসিটি। তাই আপনি এখানে ০.৫% ডেনসিটি মেইনটেইন করেও পার পাবেন। 

আবার যদি "বেস্ট আইফোন এইট প্লাস এক্সেসরিজ" নিয়ে আর্টিকেল দেন, আর সেখানে যদি ০.৫% ডেনসিটি মেইন্টেইন করেন তাহলে আপনার খবর আছে।

কেন?

কারণ এই নিশে দেখবেন কিওয়ার্ডের উল্লেখ না করেও লোকে র‍্যাংক করছে, এল এস আই থাকায় ও র‍্যাংক করছে, শুধু টাইটেলে, শুধু ইউ আর এল স্লাগে থাকলেও র‍্যাংক করছে। 

যেমন - বিবম এর এই আর্টিকেলটি 

এখানে দুইটা ব্যতিক্রমধর্মী নিশ নিয়ে প্রথমে কথা বলার কারণ, যাতে কিওয়ার্ড ডেনসিটি মেইনটেইন না করলে র‍্যাংক করবেইনা - এমন ধারণা যারা পোষণ করেন তাদের ভুল ভাঙে। 

এবার আসি অ্যামাজন নিশ সাইটের ক্ষেত্রে - 

০.৫% ডেনসিটি মেইনটেইন করে ৩০০০ শব্দের আর্টিকেল দিলে সেখানে অন্তত ১৫ বার মূল কিওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে। কেউ কেউ তো আবেগে পরে তার চাইতেও বেশি সংখ্যকবার ব্যবহার করে ফেলে। এতো বেশি বার দেয়াটা এই ক্ষেত্রে অযৌক্তিক এবং অস্বাভাবিক। 

অনেকে আবার মূল কিওয়ার্ড এর ডেনসিটি এরকম বজায় রেখে এল এস আই কেও অনেক বার দিয়ে দেন। এখানেও ভুল হচ্ছে।

আপনি যদি এমন কোন অ্যামাজন নিশ সাইট চিনেন যেটা ০.৫% কিওয়ার্ড ডেনসিটি মেইনটেইন করেও গুগলে প্রথম ১-৩ এ আছে, তাহলে কমেন্ট সেকশনে জানান। আমি অন্তত এখন পর্যন্ত এমন কিছু দেখিনি। 

অর্থাৎ ০.৫% ডেনসিটির বিষয়টা ক্ষেত্রবিশেষে সঠিক হলেও আমরা যেধরণের কাজ করি তার জন্যে এটা অনেক অনেক অনেক বেশি। আর এখানটাতেই আমাদের ভুল হচ্ছে। 

​তাহলে কিওয়ার্ড ডেনসিটি কেমন রাখবো?

আজকের দিন ভালো যাবে ;)

এই প্রশ্নের একটা সার্বিক উত্তর দেই, যেটা কম বেশি সব নিশেই খাটবে। আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত কিওয়ার্ড দিয়ে গুগল সার্চ করুন। প্রথম ১০ এ যারা র‍্যাংক করে আছে তাদের সবার কিওয়ার্ড ডেনসিটি চেক করুন। এরপর সেটার একটা গড় করুন। গড় যদি ১-৩ এর মধ্যে র‍্যাংক করা সাইটগুলোর ডেনসিটির চেয়ে একটু কমবেশি হয় তাহলে সেটাকেই গ্রহণ করুন। 

একটু কম বেশি বলতে ২-৩বার কম বেশি ধরুন। এর চাইতে বেশি কম, বা বেশির দিকে হলে সেটা নেয়াড় দরকার নেই।

সেক্ষেত্রে ১-৫ এ যারা র‍্যাংক করে আছে তাদের ডেনিসিটি দেখে যেটা আপনার কাছে যৌক্তিক মনে হয় সেটা নিন। 

অন এভারেজ আপনি ৩০০০ শব্দের আর্টিকেল দিলে, সেখানে ৩-৫ বার ব্যবহার করতে পারেন। ৫ হাজারে ৫-৭ বারের বেশি দরকার নেই। ছোট কিওয়ার্ড হলে সমস্যা ছিলনা, যেহেতু কিওয়ার্ড ৩ ওয়ার্ড বা তার বেশি শব্দের হয়, তাই কম রাখতে হবে।

শেষ কথা 

কিওয়ার্ডের ডেনসিটি যদি কিছু কমও হয়, তাতেও ওয়েবসাইট র‍্যাংক করানো সম্ভব। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত বেশি হয়ে ওভার অপ্টিমাইজড হয়ে গেলে তখন র‍্যাংক করানো অসম্ভব। খুব ভালো ভালো লিংক দিলে তখন সাইট বাবাজি কুপোকাত হয়ে পড়ে থাকবে। 

আজই আপনার নিশ সাইট ওভার অপ্টিমাইজড কিনা চেক করুন। হয়ে থাকলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন। যদিওবা সাময়িক র‍্যাংক ড্রপ করতে পারে (করবেই এমন না), দীর্ঘমেয়াদে ইনশাআল্লাহ এর ফলে উপকার পাবেন। 

আপনার পরিচিত এসইও রিলেটেড ফেসবুক গ্রুপ থাকলে, সেখানকার মানুষও যেন ওভার অপ্টিমাইজেশন করে ভুল পথে না যায় সে ব্যাপারে সতর্ক করতে পারেন। দিনশেষে আমরা একটা কমিউনিটি, নিজেরা নিজের ভালো না বুঝলে আমাদের এসইও ইন্ডাস্ট্রি আগাবে কি করে?  

অনলাইন কমিউনিটি

একতাই বল :3 

Ariful Islam Palash
 

বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। টুকটাক লেখালেখির পাশাপাশি বই পড়া, নতুন জিনিস জানার প্রতি ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে তার। ব্যবসার প্রতি মনের টান রয়েছে, ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম একজন ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় নিজেকে। প্রয়োজনে ফেসবুকে পলাশ এর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। :)